আমাদেরবাংলাদেশ ডেস্ক।। দেশে বাল্যবিয়ে রোধে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে গুরুত্ব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।
তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও নারী উন্নয়নে বিভিন্ন আইন, বিধি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলো বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) প্রতিমিন্ত্রী ইউএস এইড, কেয়ার বাংলাদেশ ও সৌহার্দ্য-৩ কর্মসূচি আয়োজিত ‘বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে তৃণমূলের কৌশল’ এর জাতীয় পর্যায়ের এক ভার্চুয়াল সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাগত বক্তব্য দেন- কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রামেশ সিং। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ইউএস এআইডির পরিচালক এলেন ডি গুজম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুননেসা মাহতাব।
এ সময় নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের অবদান উল্লেখ করে ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নারী-পুরুষ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সুসংহতকরণ, বাল্যবিয়ে হ্রাস ও নারী শিক্ষার প্রসারে গৃহীত পদক্ষেপগুলো আজ বিশ্বব্যাপী উচ্চ প্রশংসিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বের কাছে রোল মডেল। ২০১৪ সালে লন্ডন গার্লস সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশকে বাল্যবিয়ে মুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রতিরোধ ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রান্তিক ও অসহায় কিশোর-কিশোরীদের জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স প্রতিরোধ করার জন্য ৮ হাজারটি কিশোর-কিশোরি ক্লাব স্থাপন করা হয়েছে। ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য ১ কোটি মহিলাকে তথ্য সেবা প্রদানে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
করোনার সময় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন ১০৯ এর মাধ্যমে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও বাল্যবিবাহ বন্ধে ৯৮৪১২৫টি ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারিতে নারী ও কন্যাশিশুরা স্বাস্থ্যগত সংকটের পাশাপাশি বিভিন্ন নেতিবাচক পরিস্থিতির মোকাবিলা করে যাচ্ছে। যার ফলে বিশ্বব্যাপী পারিবারিক সহিংসতা ও বাল্যবিয়ে বেড়েছে বলে জাতিসংঘের পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গ্রামীণ পরিবারগুলোতে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
এছাড়াও বিভিন্ন দেশে কর্মরত অভিবাসী ও বিভিন্ন পেশার লোকজন এ সময়টায় দেশে ফিরেছেন। সমাজ বাস্তবতায় প্রবাসীদের বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র হিসেবে চাহিদা বেশি। আর এই অবরুদ্ধ অবস্থায় অনেক অভিভাবক মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বাল্যবিয়ে যে বেড়েছে তা নিশ্চিত না তবে করোনা বা যে কোনো দুর্যোগে এমন পরিস্থিতি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।
বাল্য বিয়ে প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে বিশিষ্ট মানবাধিকার এবং সমাজবিষয়ক বিশ্লেষক শিফা হাফিজা বলেন, বর্তমানে কমিউনিটি গ্রুপ ডিসকাশনে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে অনেক সহায়তা করছে। আগের যে এফিডিফেট সিস্টেম আছে সেটাকে পরিবর্তন করলে বাল্যবিবাহ রোধে ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি। এছাড়াও স্কুল কেবিনেটগুলোকে বাল্যবিবাহ রোধে কাজে লাগানো যায় কিনা সে বিষয়টাকে তুলে ধরেন তিনি।
প্যানেল অলোচকদের মধ্যে গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদাকে চৌধুরী বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে স্কুল কারিকুলামে কিছু বিষয় তুলে ধরতে হবে। গতানুগতিক প্রচারণা বাদ দিয়ে বাল্যবিবাহ না দিলে সুফলটা কি হবে তা বাচ্চাদের বোঝাতে হবে। মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফাওজিয়া মোসলেম বলেন, স্থানীয় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নারীর প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে।
আমাদেরবাংলাদেশ.কম/সিয়াম